Pollen / পরাগরেণু
পরাগরেণু কি
নগ্নবীজী ও গুপ্তবীজী উদ্ভিদের পরাগথলিতে উৎপন্ন ক্ষুদ্র পুংযৌন অঙ্গ। পরাগরেণু মাতৃকোষে মায়োসিস (meiosis) সংঘটিত হলে হ্যাপ্লায়েড পরাগরেণু উৎপন্ন পরাগরেণুর প্রাচীর (sporoderm) প্রধানত দ্বিস্তর বিশিষ্ট : (১) মোমযুক্ত, পুরু, শক্ত, বহিস্ত্ৰক বা এক্সাইন (exine) ও ২) ভিতরের পাতলা দুর্বল অন্তস্তুক বা ইন্টাইন (intine)। এক্সাইনকে পুনরায় এক্টেক্সাইন (ektexine) ও এন্ডেক্সাইন (endexine) এই দুই স্তরে বিভক্ত করা যায়। এক্সাইনের অলংকরণ ও পরাগরেণুর বিভিন্ন রধ্রের বিন্যাস ব্যবহার করে গোত্র, গণ এমনকি প্রজাতি পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব। যদিও অধিকাংশ পরাগরেণু সহজে নষ্ট হয়, তবে এমন অনেক রেণু আছে যেগুলো বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক সময়কালের শিলাতে ফসিল হিসাবে সংরক্ষিত থাকে। ঐসব পরাগরেণুর গঠন পর্যালোচনা করে জীবিত বিভিন্ন উদ্ভিদগোষ্ঠীর ফাইলোজেনি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের যে শাখায় পরাগরেণুর গঠনবৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করে শ্রেণিবিন্যাস ও ফাইলোজেনি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করা হয় তাকে পরাগবিজ্ঞান (Palynology) বলে।
একই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত পরাগরেণুর আকারের ব্যাপক তারতম্য থাকলেও সাধারণত এদের ব্যাসার্ধ ২৪ থেকে ৫০ মাইক্রোমিটার (মামি) হয়ে থাকে। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের সবচেয়ে ছোট রেণু Myosotis-এ (২ মামি) ও সবচেয়ে বড় রেণু Mirabilis গণে (২৫০ মামি) দেখা। যায়। একবীজপত্রী উদ্ভিদে পরাগরেণু ১৫ হতে ১৫০ মামি বা বেশি পর্যন্ত হতে পারে। আদা গোত্রে (Zingeberaceae) এর চেয়ে বড়। পরাগরেণু দেখা যায়। ই ঘাসের (Zostera) পরাগরেণু সবচেয়ে বড়। যার আকার ২৫৫০ x ৩.৭ মামি। জীবিত নগ্নবীজী উদ্ভিদের পরাগরেণুর সর্বনিম্ন ব্যাসার্ধ Gnetum-এ (১৫ মামি) ও সর্বোচ্চ Abies-এ (থলিসহ ১৮০ মামি) দেখা যায়। এছাড়া ফসিল ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে ১১ হতে ৩০০ মামি পর্যন্ত আকারের রেণু দেখা পরাগথলিতে পরিপক্ব পরাগরেণুর ওজন ০.০০০০৭ মিগ্রা (spruce) বা তার ২০ ভাগের একভাগেরও কম হতে পারে।
মেরুর দিক থেকে দেখলে পরাগরেণু গোলাকার, উপবৃত্তাকার হতে শুরু করে সূত্রাকার পর্যন্ত হতে পারে। আবার পুরাগের মেরু নির্দেশনার (polority) উপর ভিত্তি করে এদেরকে : (১) অ্যাপোলার (apolar) রেণুর কোনো নির্দিষ্ট মেরু নির্দেশ করা যায়; (২) আইসোপোলার (isopolar) পরাগকে বিষুব রেখা দিয়ে সমান দুই ভাগে ভাগ করা যায়; ও (৩) হেটেরোপোলার (heteropolar) দুটি মেরু ভিন্ন—এই তিনভাগে ভাগ করা যায়।
পরাগরেণুর বিস্তারণ বা পরাগধানী বিদিরণের (anthesis) সময় পরাগরেণু দ্বি-নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট বা জি-নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট হতে পারে। একবীজপত্রী এবং মুক্তদলী (polypetalous) ও বেশির ভাগ দলহীন (apetalous) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে দ্বি-নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট পরাগ এবং যুক্তলী (gamopetalous) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে ত্রিনিউক্লিয়াস বিশিষ্ট পরাগ পাওয়া যায়।
বেশির ভাগ পরাগরেণু পরিপক্ক অবস্থায় এককভাবে (monads) থাকে। তবে বাইরের কাটা, আঠালো তেল বা ভাইসিন (viscin) সূত্রের জন্য প্রায়শই এদেরকে ডাইয়াড (diad), টেট্রাড (tetrad) বা পলিয়াড (polyad) হিসাবে থাকতে দেখা যায়। এদের মধ্যে টেট্রাড বিন্যাসের ব্যাপকতা সবচেয়ে বেশি, যা আবার টেট্রাহেডরাল (Ericaceae), falls (Typha), COLTCITATG (Annonaceae) ইত্যাদি ধরনের হতে পারে। কিছু কিছু গুপ্তবীজী গোত্রে, যেমন, Orchidaceae, Asclepiadaceae অসংখ্য পরাগরেণু মিলিত হয়ে পলিনিয়াম নামক অঙ্গ তৈরি করে।
পরাগরেণুর এক্সাইনের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে শুধু এন্ডেক্সাইন। থাকলে ঐ দুর্বল স্থানটিকে অ্যাপারচার (aperture) বলে। এটি দুধরনের : (১) আঁজ (furrows) বা কলাপাস (colpus): আয়তাকার বা উপবৃত্তাকার অ্যাপারচার যার দৈর্ঘ্য-প্রস্থের অনুপাত দুইয়ের বেশি ও (২) বন্ধু (pore): গোলাকার বা খানিকটা উপবৃত্তাকার অ্যাপারচার। কলপাসের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে পরাগরেণু মনোকলপেট (নগ্নবীজী, একবীজপত্রী ও আদি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ), ট্রাইকলপেট (আধুনিক দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ), অথবা প্যানকলপেট হতে পারে। অনেক উদ্ভিদে কলপাস ও রন্ধের মধ্যবর্তী ধরনের সঙ্কীর্ণ ফাটলের মতো অ্যাপারচার দেখা যায়। আবার কিছু গোত্রে কোনো অ্যাপারচার নেই, যেমন বায়ু ও পানি পরাগী ফুলের পরাগরেণু। এগুলোতে এক্সাইন এমনিতেই পাতলা থাকে; তাই সেখানে কোনো অ্যাপারচার দেখা যায় না। নগ্নবীজী উদ্ভিদেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রকার উন্মুক্ত স্থান থাকে না, অথবা একটি ছোট্ট প্যাপিলা থাকে। প্রতিসাম্যের দিক থেকে মনোকলপেট রেণুগুলো দ্বিপ্রতিসম এবং ট্রাইকলপেট রেণুগুলো বহুপ্রতিসম। কিছু কিছু পরাগরেণু সম্পূর্ণভাবে মসৃণ হয়ে থাকে (psilate)। অবশ্য অধিকাংশ পরাগরেণুতেই এক্সাইনের বহিঃপৃষ্ঠে অলংকরণ থাকে।
পরাগরেণু গর্ভপত্রের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হবার পর অঙ্কুরিত হয়। এর ফলে পরাগরেণু হতে পরাগনালি (pollen tube) গভর্দণ্ডের ভিতর দিয়ে বাহিত হতে থাকে। এই পরাগনালিসহ পরাগরেণুটি নগ্নবীজী বা গুপ্তবীজী উদ্ভিদের পুংগ্যামেটোফাইট এবং এর নালির অভ্যন্তরেই জনন নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে পুং যৌন কোষ উৎপন্ন হয় যা পরবর্তীকালে ভ্রণথলির ভিতরে নিষেকে অংশগ্রহণ করে।

0মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions