Home » » সাইকোথেরাপি কি

সাইকোথেরাপি কি

Psychotherapy / সাইকোথেরাপি 

সাইকোথেরাপি কি

মানসিক রোগের চিকিৎসার প্রক্রিয়াবিশেষ। ‘সাইকোথেরাপি’ শব্দটি বহুল ব্যবহৃত হওয়ার ফলে অনেকের ধারণা এ ধরনের চিকিৎসার হয়তো একটিই কৌশল রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সাইকোথেরাপির নানা রকম (অন্তত ১৩০ কিংবা তার চেয়ে বেশি) পদ্ধতি রয়েছে। সাধারণত পরিজ্ঞানসম্পন্ন মানসিক রোগ অর্থাৎ নিউরোসিসের ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি প্রয়োগ করা হয়।

তত্ত্বগত কিংবা পদ্ধতিগত পার্থক্যের জন্য বিভিন্ন রকম সাইকোথেরাপির বিভিন্নভাবে নামকরণ করা হয়েছে। যেমন— মনোকলন (psychoanalysis), রোগীকেন্দ্রিক সাইকোথেরাপি, আচরণগত চিকিৎসা (behaviour therapy) ইত্যাদি। এছাড়া বৈঠক সংখ্যা, রোগীর সংখ্যা কিংবা চিকিৎসার স্থায়িত্বকাল অনুসারেও সাইকোথেরাপিকে শ্রেণিবিন্যস্ত করা হয়। যেমন—ব্যক্তিগত কিংবা দলগত সাইকোথেরাপি, পারিবারিক কিংবা বৈবাহিক সাইকোথেরাপি, শিশু কিংবা বয়স্কদের সাইকোথেরাপি, সংক্ষিপ্ত কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সাইকোথেরাপি ইত্যাদি।

সাইকোথেরাপি কৌশলসমূহের মধ্যে মনোকলন বা সাইকোঅ্যানালিসিস সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এ ধরনের চিকিৎসার মূল লক্ষ্য ধীরে ধীরে রোগীর মানসিক প্রতিরোধ (defenses) অতিক্রম করে তার অবদমিত দ্বন্দ্ব সম্পর্কে তাকে অন্তর্দষ্টি প্রদান করা। কারণ মনোলন পদ্ধতিতে মনে করা হয় অবদমিত দ্বন্দ্বই পরিজ্ঞানসম্পন্ন মানসিক রোগের উৎস। অবশ্য আলফ্রেড অ্যাডলার (Alfred Adler) এবং কার্ল ইয়ুং (Carl Jung) কর্তৃক মনোকলন পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান এবং ক্যারেন হনি (Karen Horney) এবং হ্যারি স্ট্যাক সালিভান (Harry Stack Sullivan) কর্তৃক তত্ত্বগত পরিবর্ধন সত্ত্বেও মনোকলন পদ্ধতি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  অন্যান্য অসংখ্য সাইকোথেরাপি পদ্ধতিসমূহের মধ্য থেকে এখানে কয়েকটি মাত্র পদ্ধতির নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। কার্ল রজার্স (Carl Rogers) ১৯৪০-এর দশকে রোগীকেন্দ্রিক সাইকোথেরাপির প্রচলন ঘটান। এ পদ্ধতিতে রোগীকে নিজে থেকে পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়; চিকিৎসক তাকে দৃঢ় কিন্তু উষ্ণ সমর্থন জানান।

আরেক ধরনের সাইকোথেরাপি সকলের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মনোকলন পদ্ধতি থেকে এটা পুরোপুরি ভিন্ন প্রকৃতির। এই পদ্ধতিকে বলা হয় আচরণগত চিকিৎসা (behaviour therapy)। এ প্রক্রিয়ায় রোগীকে উপসর্গমুক্ত করার জন্য তার আচরণ পরিবর্তন করার উপরে গুরুত্ব প্রদান করা হয়। এ ক্ষেত্রে রোগীর মানসিক দ্বন্দ্ব কিংবা অবচেতন মনের সমস্যার প্রতি দৃকপাত না করে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সরাসরি রোগীকে উপসর্গমুক্ত করার জন্য চিকিৎসক সক্রিয় নির্দেশ দেন এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

কগনিটিভ থেরাপি (cognitive therapy) আরেক প্রকার সাইকোথেরাপি। এতে মনে করা হয়, কোনো কিছু সম্পর্কে রোগীর ভুল ধারণা এবং চিন্তা-চেতনার ভ্রান্তিই রোগীর মানসিক সমস্যার কারণ। এজন্য এ পদ্ধতিতে চিকিৎসক রোগীকে বাস্তবসম্মত এবং ইতিবাচক ধারণা গঠন ও চিন্তা করতে সাহায্য করেন। কখনো কখনো আচরণগত এবং ইতিবাচক চিন্তামূলক চিকিৎসা সম্মিলিতভাবে প্রয়োগ করা হয় যা চিন্তা-আচরণগত চিকিৎসা (cognitive-behaviour therapy) নামে পরিচিত।

0মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Comment below if you have any questions

Contact form

নাম

ইমেল*

বার্তা*

-->