প্রশিক্ষণের গুরুত্ব কি?
প্রশিক্ষণের গুরুত্ব (Importance of Training)
মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে বর্তমান যুগ প্রতিযোগীতার যুগ। এই যুগের উৎপাদন পদ্ধতি, কার্য প্রণালী জটিল প্রকৃতির। এই জটিল প্রকৃতির কার্য প্রণালীকে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। নতুন ও পুরাতন কর্মিদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞাতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিচে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলোঃ-
দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি : প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন এবং পুরাতন কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি করা যায়। ফলে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে কাজ করার ক্ষেত্রে তাদরে কাজ সম্পাদন কোন সমস্যা হয় না।
পণ্য ও সেবা উৎপাদন নতুন পদ্ধতি ও জ্ঞান দান : প্রশিক্ষণের দ্বারা পণ্য ও সেবা উৎপাদন ব্যবহৃত নতুন পদ্ধতি ও কৌশল সম্পর্কে কর্মিদের অবহিত করা যায়। ফলে তারা দক্ষতার সাথে স্বীয় কার্য সম্পাদন করতে পারে ।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার : উৎপাদন প্রক্রিয়ার ব্যবহৃত পদ্ধতি, প্রযুক্তি প্রক্রিয়া, কৌশল প্রতিনিয়তই উন্নয়ন লাভ করে। উন্নত পণ্য ও সেবা উৎপাদন ও বন্টনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কর্মীদের সামর্থ্য করে তোলে ।
সাংগঠনিক জটিলতা হ্রাস : প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সহজ সরল করার চেষ্টা করা হয়। ফলে সাংগঠনিক জটিলতা হৃাস পায় ।
পরিবর্তনকে স্বাগত : সব কিছুই পরিবর্তনশীল। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন ও বন্টন প্রক্রিয়ায় আধুনিক ও পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি, কৌশল সম্পর্কে কর্মীদের অবহিত করা হয়। ফলে তারা পরিবর্তনকে স্বাগত জানায়।
সহযোগীতা নিশ্চিত : প্রতিষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সকল বিভাগের, সকল কর্মীর, সকল কাজের মধ্যে সহযোগিতাও সমন্বয় প্রয়োজন হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায়। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন সহজ হয়।
মনোবল বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনা হৃাস : প্রশিক্ষণের ফলে কর্মীদের মনোবল কার্যসম্পাদন যোগ্যতা ও স্পৃহা বৃদ্ধি পায়। ফলে তারা আস্থাও দক্ষতার সাথে কার্য সম্পাদন করতে পারে। এতে কারে দুর্ঘটনা হৃাস পায়।
তত্ত্ববধান সহজ : প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের কার্যসম্পাদন যোগ্যতা, দক্ষতা বৃদ্দি পায়। ফলে তারা তত্ত্ববধায়কের সাহায্য ছাড়াই কার্য সম্পাদন করতে পারে। এতে তত্ত্ববধান সহজ হয়।
মিতব্যয়িতা অর্জন : প্রশিক্ষণের ফলে কর্মীরা দক্ষ হয়ে উঠে। প্রতিটি কার্য স্বল্প সময়ে, স্পল্প অপচয়ে এবং দুর্ঘটনা মুক্ত অবস্থায় দক্ষতার সাথে সম্পাদিত হয়। ফলে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন ব্যয়-অবচয় হৃাস পায়, পণ্যের গুণাগুন উন্নত হয এবং মিতব্যয়িতা অর্জিত হয়।
সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার : বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা সম্পদের অভাব নয়, সম্পদের সদ্ব্যবহারে ব্যর্থতা। প্রশিক্ষণ কর্মীদের দক্ষ করে তোলে। ফলে প্রতিষ্ঠিত সকল সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
মানবীয় সম্পর্কের উন্নয়ন : প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীরা প্রতিটি কাজ সম্পর্কে, অপর পর কর্মিদের দক্ষতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। ফলে প্রতিষ্ঠানের মানবীয় সম্পর্কের উন্নয়ন হয়।
দক্ষ মানব সম্পদ গঠন : প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের কার্যের প্রকৃতি ও ধরণ, পদ্ধতিওকৌশল ইত্যাদি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়। ফলে প্রতিটি কর্মীই দক্ষ হয়ে উঠে এবং সম্পদে পরিনত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানে এবং সামগ্রিকভাবে দেশে দক্ষ মানব সম্পদ গঠন সহজ হয়।
কর্ম সন্তুষ্টি বৃদ্ধি : প্রশিক্ষণের দ্বারা কর্মীরা কার্য সম্পর্কে দক্ষ হয়। কাজের প্রতি তাদের আগ্রহ, উৎসাহ, আন্তরিকতা ও মনোবল বৃদ্দি পায়। এতে করে তাদের কার্য সন্তুষ্টির পরিমাণ ও মাত্রা বৃদ্দি পায় ।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions