ফাতেমীয়দের পরিচয় দাও
উবায়দুল্লাহ আল-মাহদী উত্তর আফ্রিকায় যে বংশটি প্রতিষ্ঠা করেন তাই ফাতিমি বংশ নামে পরিচিত। এই বংশের লোকেরা নিজেদেরকে হযরত আলী (রা.) ও হযরত ফাতিমার (রা.) বংশধর দাবী করে বলে তাদেরকে ফাতিমি বলা হয়। তারা ছিল সপ্তম ইমামে বিশ্বাসী বা সাবিয়া (The Seveners)। তারা ঈসমাইলীয় সম্প্রদায় নামেও পরিচিত। উবায়দুল্লাহ আল-মাহদী ছিলেন ইমাম ইসমাইলের অধ:স্তন। তারা প্রথম সাত জন ইমামকে তাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে স্বীকার করে। এই সাতজন ইমাম হলেন যথাক্রমে হযরত আলী (রা.), হযরত হাসান (রা.), হযরত হোসাইন (রা.), যয়নুল আবিদীন (তাকে দ্বিতীয় আলীও বলা হয়ে থাকে), মুহম্মদ আল-বাকির, জাফর আস-সাদিক এবং ঈসমাইল। ঈসমাইলীয় সম্প্রদায় শিয়া উপ-দলের একটি অন্যতম শাখা।
৭৬৫ সালে ইমাম জাফর আস-সাদিক তাঁর উত্তরাধিকারী ও সপ্তম ইমাম হিসেবে বড় পুত্র ঈসমাইলকে মনোনীত করেন। ঈসমাইল মদ্যপায়ী ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পূর্বেই ঈসমাইল ইন্তেকাল করলে ইমাম জাফর আস-সাদিক তদস্থলে তাঁর পরবর্তী পুত্র মুসা আল-কাযিমকে পরবর্তী উত্তরাধিকারী বা সপ্তম ইমাম হিসেবে মনোনীত করেন। শিয়াদের অনেকে এটা মেনে নেয়, আবার অনেকে মেনে নেয় নি। যারা মুসা আল-কাযিমের মনোনয়ন মেনে নেয়নি এবং কেবল ঈসমাইলকেই সপ্তম ইমাম হিসেবে স্বীকার করে তারাই ঈসমাইলীয় সম্প্রদায় নামে পরিচিত। ফলে তারা শিয়াদের সাধারণ ধারা হতে বিভাজন হয়ে যায়। তারা মনে করে ইমামত স্রষ্টা কর্তৃক নির্দেশিত। যিনি একবার ইমাম হিসেবে মনোনীত হন তাকে আর বাদ দেয়া যায়না। তারা মনে করে ইমামত শুধু ঈসমাইল ও তার উত্তরসূরীদের মধ্য দিয়ে বিকাশ লাভ করবে। তারা ঈসমাইলের পুত্র মুহম্মদ আল-মাকতুমকে ইমাম হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর মুহম্মদ আল-মাকতুমের পুত্র জাফর আল-মুসাফাক, জাফর আল-মুসাফাকের পুত্র মুহম্মদ আল-হাবীব এবং মুহম্মদ আল-হাবীবের পুত্র উবায়দুল্লাহ আল-মাহ্দী পর্যায়ক্রমে ঈসমাইলীয় ইমাম মনোনীত হন।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions