বিধেয়ক কি
বিধেয়ক একটি সম্বন্ধবাচক শব্দ । যুক্তিবিদ্যার জনক গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২) সর্বপ্রথম 'বিধেয়ক' নিয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীকালে তৃতীয় খ্রিস্টাব্দে যুক্তিবিদপরফিরি (খ্রিস্টাব্দ ২৩৪-৩০৫) তাঁর Introduction to Categories নামক গ্রন্থে বিধেয়ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ।যে কোনো যক্তিবাক্যে দুটি পদ থাকে উদ্দেশ্যে ও বিধেয় ।
যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্যে হচ্ছে সেই পদ, যার সম্বন্ধে কোনোকিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় । আর বিধেয় হচ্ছে সেই পদ, যার দ্বারা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কোনোকিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় ।
যুক্তিবিদ এরিস্টটল ও পরফিরি এর মতে, যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্যের সাথে বিধেয়ের যে বিভিন্ন প্রকার সম্বন্ধ থাকে, সে সম্বন্ধগুলোই বিধেয়ক (Predicables) ।
সুতরাং বিধেয় হলো উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো বক্তব্য প্রকাশক পদ ।আর বিধেয়ক হলো ঐ বিধেয়টির সংগে উদ্দেশ্যের একটি সম্পর্কের নাম।বিধেয়ককে অনেক সময় ‘পঞ্চ শব্দ' বলা হয় । মধ্যযুগের দর্শনে এই ‘পঞ্চশব্দ' হলো: জাতি, উপজাতি, বিভেদক লক্ষণ, উপলক্ষণ ও অবান্তরলক্ষণ ।
উল্লেখ্য যে, এরিস্টটল ও পরফিরি যে সকল বিধেয়কগুলো উল্লেখ করেছেন, নঞর্থক যুক্তিবাক্য ও বিশিষ্ট পদ সংবলিত বাক্য এ সকল বিধেয়কের আওতায় পড়ে না। যে কারণে পরবর্তীকালে এ প্রসঙ্গে যুক্তিবিদ অধ্যাপক ল্যাটা ও ম্যাকবেথ (Professor Latta and Macbeath) তাঁদের বিখ্যাত The Elements of Logic গ্রন্থে বলেন যে, বিধেয়কসমূহকে সাধারণ পদসমূহের সেই শ্রেনিবিন্যাস হিসেবে নিরূপণ করা যায় যে শ্রেনিবিন্যাস একটি সদর্থক যুক্তিবাক্যের সম্ভাব্য বিধেয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং যা উদ্দেশ্য পদের সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল ।
সুতরাং বলা যায়, শ্রেণিবাচক বিধেয় পদ সংবলিত কোনো সদর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদের সাথে উদ্দেশ্য পদের যেসব সম্পর্ক থাকা সম্ভব তাই বিধেয়ক ।
উপরোক্তসংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে বিধেয়কের নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যসমুহ লক্ষ্য করা যায়:
(ক) বিধেয়ক উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার সম্বন্ধের নাম ।
(খ) বিধেয়ক শুধুমাত্র হ্যাঁ বোধক বা সদর্থক যুক্তিবাক্যের ক্ষেত্রে থাকে; নঞর্থক বা নেতিবাচক যুক্তিবাক্যে নয় ।
(গ) কেবলমাত্র সার্বিক বিধেয় পদযুক্ত যুক্তিবাক্যেই বিধেয়ক থাকে; বিধেয় বিশিষ্ট পদযুক্ত যুক্তিবাক্যে বিধেয়কের অস্তিত্ব থাকে না ।
একটি উদাহরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টি আরো সহজ করা যায় । যেমন-‘সকল মানুষ হয় মরণশীল'- এ যুক্তিবাক্যে ‘মানুষ' পদটিউদ্দেশ্য এবং মরণশীল' পদ হলো বিধেয় । এখানে বিধেয় পদ একটি শ্রেণিবাচক বা সার্বিক পদ । প্রদত্ত যুক্তিবাক্যটি সদর্থক হওয়ায় বিধেয় ‘মরণশীল' পদের সাথে উদ্দেশ্য ‘মানুষ' পদের সাথে যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে তাই হলো বিধেয়ক । প্রসংগত উল্লেখ্য যে, সম্পর্কের বিবেচনায় মরণশীল পদটি মানুষ পদের উপলক্ষণ নামক বিধেয়ক ।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Comment below if you have any questions